বয়ান

 ইয়া আল্লাহ্‌, পুরো পৃথিবীতে আপনি ছাড়া কেউ নাই যাকে আমি স্মরণ করি।

আপনি ছাড়া কেউ নাই যার সামনে মাথা নত করি।
আপনি ছাড়া কেউ নাই যার সামনে হাত পাতি।
আপনি ছাড়া কেউ নাই যে মুক্তহস্তে দেয় আর দেয়া সময় খুশি হয়।
আপনি ছাড়া কেউ নাই যে সব সময়ের ডাকে সাড়া দেয়।
আপনিই সবসময় প্রার্থণায় ডাকে সাড়া দিয়ে আসেন।
আপনাকে তো আসতেও হয়না।

আপনি তো আগে থেকে কাছে।
এটা তো আমাদের আন্দাজ, আহ্লাদ আর ছেলেমানুষি যে
আমরা তাকে বলি আসতে।
সে তো আগে থেকেই আছে।
আমার জীবন উৎসর্গ হোক সেই সত্ত্বার ওপর।

দেখ, এত দূরে যে এখান থেকে দেখা যায় না।
কল্পনাতেও তাকে দেখা যায় না।
কল্পনার গতি আলোর গতি থেকেও বেশি।
দেখতে চাইলে, তা দৃষ্টি সীমার বাইরে।
ভাবতে চাইলে, কল্পনার ঘোড়া ক্লান্ত হয়ে পড়ে যাবে, পৌঁছাতে পারবে না।
যখন সে এতই দূরে চলে গিয়েছে যে কল্পনাও পৌঁছুতে পারে না,
দৃষ্টিও পৌঁছে না, তাহলে আমাদের কথা কে শুনবে?
সুবহানআল্লাহ!
দুইটা আলাদা জিনিস আমাদের রব তাঁর মধ্যে জমা করে দেখিয়েছেন।
আমি এখানে বসে আছি,
তো আমি এই বন্ধুদের নিকটবর্তী।
আর ওই বন্ধুদের থেকে দূরে।
যদি আমি ওদের কাছে যেতে চাই, তাহলে আমি মিম্বর উঠিয়ে সেখানে যেতে হবে।
কিন্তু ওদের কাছে গেলে আবার এদের থেকে দূরে হয়ে যাব।
যে সময় আমার রব দৃষ্টিসীমার বাইরে,
যে সময় আমার রব কল্পনারও অতীত, সেই সময়েই আমার রব আমার অত্যন্ত কাছে।
"বলো, ডাকো। আমি তোমার সাথে আছি।"
অন্য যে কাউকেই ডাকেন,
তিনি হয়ত ঘুমিয়ে থাকবেন,
হয়ত তার ফোন বন্ধ থাকবে।
যাকেই ডাকেন, হয়ত সে দুনিয়া ছেড়েই চলে গেছে।
অথচ আমার রব কেমন?
মৃত্যু, ঘুম, ক্লান্তি, স্ত্রী, সন্তান এইসব কিছু থেকে
পবিত্র, মুক্ত তিনি।
স্ত্রী নেই।
সন্তান নেই।
কোনো শরীক নেই।
সাহায্যকারী কেউ নেই।
সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড রবের তাসবিহ পড়ে।
সম্মান আর জ্ঞানী।
আসমান-জমিনের শাহেনশা।
জীবন-মৃত্যুর মালিক।
সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
কাদির-কুদরাত
আলীম-আল্লাম
কাদির-কাদির
গালিব-গাল্লাব
আলীম-আলীম
কাদের-কাদির
জাবের-জাব্বার।
আহা! শব্দ আনব কোথা থেকে!
সেই সত্ত্বার প্রশংসা ব্যক্ত করার জন্যে।
সমস্ত বিশ্ব তোমার রবের সামনে খোলা বইয়ের মত।
আমরা সৃষ্টি, তিনি স্রষ্টা।
আমরা মরণশীল, তিনি মৃত্যু দানকারী।
আমরা খায়, তিনি খাওয়ান।
আমরা চাই, তিনি দেন।
আমরা সাহায্যের মুখাপেক্ষী,
তিনি সাহায্যকারী।
আমরা অত্যাচারিত,
তিনি সাহায্য প্রেরণকারী।
আমরা কাঁদি, তিনি মুছে দেন।
আমরা প্রশ্ন করি, তিনি উত্তর দেন।
তিনি আরামদানকারী,
আমি অসহায়।
তিনি সাহায্যকারী,
আমি জয়ী।
তিনি উচ্চ, আমি হীণ।
আমি সৃষ্টি, তিনি স্রষ্টা।
তিনি উকিল, আমি অপরাধী।
একজনই তো সব।
সবকিছুর আগে দেখ,
আল্লাহ্‌।
সবকিছুর পরেও আল্লাহ্‌।
সবকিছুর ওপরেও আল্লাহ।
সমস্ত বিশ্বের কোণায় কোণায়, বিন্দু বিন্দুতে দেখো তার মহিমা,
তার নতুনত্ব, তার শাহেনশাহির নিদর্শন।
(আরবী)
তোমাকে কোণে কোণে দেখিয়ে দেব।
প্রতিটি বিন্দু বলবে আল্লাহ্‌ আছেন।
প্রতিটি পাতা বলবে আল্লাহ্‌ আছেন।
পাহাড় বলবে আল্লাহ আছে।
পশু থেকে আসা দুগ্ধ বলবে আমাকে বানিয়েছেন আল্লাহ্‌।
ঘাস পেটে যায়, রক্ত প্রস্রাব নোংরা কিন্তু তা থেকে নিঃসৃত সাদা দুধও বলে, আল্লাহ্‌ আছেন।
ঝর্ণার পানিতে ভরা পাত্র বলে
আল্লাহ্‌ আছেন।
সাপের গলার বিষের থলি বলে আল্লাহ্‌ আছেন।
উড়ন্ত পাখি বলে,
আল্লাহ্‌ আছেন।
ফুলের সুবাস বলে
আল্লাহ আছেন।
গোলাপের সুন্দর রঙ বলে আল্লাহ আছেন।
মাটির মানুষের কথা বলা,
জ্ঞানের চশমা বয়িয়ে দেখা বলে
আল্লাহ্‌ আছেন।
আকাশের উচ্চতা,
জমিনের সমতল, সূর্যের তাপ, চাঁদের কোমলতা, রাতের আঁধার,
দিনের উজ্জ্বলতা, ভূগর্ভ থেকে সম্পদ বের হওয়া, জমিন থেকে তেল বের হওয়া- এই সবই
আল্লাহ্‌র নিদর্শন।
তিনি আহাদ, তিনি একক।
মদ, স্ত্রী, সন্তান- এই সবকিছু থেকে তিনি মুক্ত।
প্রকৃতিতে তিনি নিখুঁত।
শক্তিতে তিনি নিখুঁত।
মহিমায় নিখুঁত।
মর্যাদায় নিখুঁত।
তিনি বলেন,
"শুধু তোমার রবকে ডাকো,
আর কাউকে ডেকো না।"
আমি তোমাদের সবার ডাকে সাড়া দেব।"
তোমরা সব বাচ্চারা আমার একার কথা শুনছো।
শুধু দুইজন বলতে শুরু করলেই ঝামেলা শুরু হয়ে যাবে।
তোমরা বলবে,
কিছু শুনতে পাচ্ছিনা কি বলছেন।
আর আমার আল্লাহ্‌ কি বলেন?
বাহ বাহ!
আরবী
শোনো আমার বান্দা,
শুরু-শেষ,
মানুষ-জ্বীন,
জীবিত-মৃত,
পুরুষ-নারী,
বৃদ্ধ-যুবক,
সবাই একত্র হও।
আর আমার থেকে চাও।
নিজ নিজ ভাষায় চাও।
ঊর্দুতে, হিন্দিতে, ফার্সিতে, ইংরেজিতে, পার্সিতে।
সমস্ত ভাষার মানুষ বলে।
এই মুহুর্তে হাজার হাজার ভাষায় কথা বলা হচ্ছে।
আর আল্লাহ সব একত্র করলে
অজস্র ভাষা ধ্বংস হবে,
অজস্র ভাষা সৃষ্টি হবে।
সবাই নিজ নিজ ভাষায় আল্লাহ্‌কে ডাকে।
বোকা নিজের ইশারায় ডাকে।
মাজুর নিজের হৃৎপিন্ডের কম্পনে ডাকে।
যে বলতে পারে না, ইশারাও করতে পারেনা
হৃদয়ের কম্পনে ডাকে আল্লাহ্‌কে।
বোবা ইশারায় ডেকেছে আল্লাহ্‌কে।
ফর্সারা ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়, হল্যান্ডিয়, ডাচ ভাষায় ডাকে আল্লাহ্‌কে।
কালোরা হাউসাতে ডাকে আল্লাহ্‌কে ডাকে।
না জানি কত ভাষায় ডাকা হয় আল্লাহ্‌কে।
আমার আপনার আল্লাহ্‌ বলেন,

তোমরা সবাই যখন একত্রে বলবে, তখনও তোমার আল্লাহ্‌ আলাদা আলাদা শুনবে তোমাদের।
সুবহানআল্লাহ!
আলাদা আলাদা শুনবেন!
মায়ের দুই-চারটা বাচ্চা একসাথে এসে কথা বললে, মা কথা বুঝতে পারে না।
তো আমি সেই রবের প্রতি আত্মোৎসর্গ করি যিনি সমগ্র বিশ্বের ডাক শুনেন।
আর তাঁর শুনায় কোনো ধোকা নাই, অবহেলা নাই।
তারপর বলেন,

আমি সবার চাহিদা পূরণ করে দিলেও আমার ভান্ডারে একতিল, একবিন্দু পরিমাণ কমতি আসবে না।
আমার আপনার ওপর নবী (সাঃ) এর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ যে তিনি আমাদেরকে আল্লাহ্‌ সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
আমাদেরকে আল্লাহ্‌ থেকে চাইতে শিখিয়েছেন।

এটা যদি শুধু আমার কথা হয়, তবে তা নর্দমায় ফেলে দিন।
কিন্তু যদি আমার এ কথা আল্লাহ্‌র কিতাব, আর রাসূলের বার্তা থেকে হয়, তবে কান খুলে শুনে নাও।
এ কথা আমি নিজে থেকে বলিনি।
আমি যা বলি, স্পষ্টভাবেই বলি যে, এইটা আমার নবী বলেছেন আর এইটা আমার আল্লাহ্‌ বলছেন।
আমার নবীর বার্তা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন