শুরু করিতেছি মহান আল্লাহর নামে যিনি সমস্থ প্রংশসার যোগ্য। শত সহস্র কোটি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমার আপনার রাসূল, শিক্ষক এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর।আইয়্যামে জাহেলিয়্যাতের যুগে হাশিম গোএের সম্মানিত কুরাইশ বংশে পিতা আব্দুল্লাহ এর ঔরশে আমেনার কোলে মুহাম্মাদ (ﷺ) জন্ম যেন ঘোর অমানিশার মাঝে পূর্ণিমার চঁাদ।
আল্লাহ আমাদের নবী ﷺ-র নাম রেখেছেন মুহাম্মাদ। বড় আজিব নাম! মানে অনেক প্রশংসিত। আরবের মুশরিকরা দূর্ণাম করতে গিয়ে বিব্রত হত। কারণ, দূর্ণাম করতে গিয়ে শুরুতে নামটা উচ্চারণ করতে হয়। আগে স্বীকার করে নিতে হয় তিনি অধিক প্রশংসিত!
সিদ্ধান্ত হল নাম পরিবর্তনের। নতুন নাম মুযাম্মাত। অধিক নিন্দিত। কিন্তু এবার বাঁধলো আরেক বিপত্তি! আরবের লোকেরা মুযাম্মাত নামের কাউকে চিনে না!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাঁর প্রিয় বন্ধুর এমন নাম রেখেছেন, কেউ দূর্ণাম করলেও আগে স্বীকার করে নিতে হয়, "তিনি অধিক প্রশংসিত!"
যিনি ১৪ শত বছর আগে মানবাধিকারবিহীন পৃথিবীতে সাম্যের ডাক দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মানবাধিকার, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার বর্বরতা বন্ধ করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সর্বোত্তম নারী অধিকার, মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত ঘোষণা দিয়ে তিনি মেয়েদের অধিষ্ঠিত করেছিলেন অনন্য মর্যাদায় যা পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মে নেই। যিনি হাশরের ময়দানে যখন অন্যান্য নবী ও রাসূলগন ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি বলে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তখন আমার আপনার নবী উম্মাতি উম্মাতি বলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার রাসূলকে নাম ধরে ডাকতেন না।অথচ বাকি সকল নবী ও রাসূলকে নাম ধরে ডাকতেন। আল্লহ বলেন, হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো। হে ইব্রাহিম ! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছো। হে মূসা! ভয় করো না। হে ইয়াহিয়া! তুমি দৃঢ়ভাবে কিতাবকে আঁকড়ে ধরো। হে জাকারিয়া! তোমাকে একটি পুএ সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছ। তার নাম ইয়াহিয়া। কিন্তু যখন তিনি তার হাবীব মুহাম্মাদে আরাবী (ﷺ) কে ডাকার ইচ্ছে করেছেন তখন আল্লাহ বলেছেন," হে সম্মানিত নবী! তোমার রব এটা এটা বলেছন যিনি মহামান্বিত এবং সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। মুহাম্মাদ(ﷺ)এরল জন্য, তাকে ভালোবেসে। আল্লাহ তার রাসূলকে নাম ধরে ডাকেন নি।কোথাও বলেননি, "হে মুহাম্মাদ " শপদ করে বলছি কুরআনের কোথাও তার নাম ধরে সম্বোধন করেননি সূরা ফাতিহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত বলেছেন, " হে সম্মানিত নবী, আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কাফের ও মুনাফিকদের মান্য করবেন না। হে বস্ত্রাচ্ছাদিত, রাতে সালাতে দাঁড়ান কিছু অশং ছাড়া। হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন ও সর্তক করুন। আল্লাহ তঁার রাসূলকে শুধু মাএ " মুহাম্মাদ" নামে ডাকে নি । সকল সম্বোধনে তঁার নবুয়্যাত ও রিসালাতের সম্পর্কিত করে ডেকেছেন।
আল্লাহ বলেন, "মুহাম্মাদ একজন রাসুল ব্যতীত কিছু নন। মুহাম্মাদ তোমাদের কোন পুরুষদের পিতা নন। তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী"। রিসালাতএবং নবুয়্যাতের সাথেই কেবল মুহাম্মাদ নাম ব্যবহার করেছেন।এটা আল্লাহ তার রাসূলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাহিদ,শিক্ষক, পিতা,স্বামী এবং মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত হলো মুহাম্মাদ (ﷺ)।
উম্মে মা'বাদের বর্ণনায় আমার রাসূল(ﷺ)
"আমি তাঁকে দেখেছি, উজ্জ্বলদীপ্ত চেহারা, সুন্দর তাঁর গড়ন, সুদর্শন তাঁর মুখশ্রী, ছিপছিপে তাঁর শরীর। মাথাটা খুব ছোট নয়, বরং দেখতে তিনি) অভিজাত এবং সুপুরুষ। চোখদুটো তাঁর ঘনকালো, পাঁপড়িগুলো টানাটানা। বুদ্ধিদীপ্ত তাঁর চেহারা, ভরাট তাঁর কণ্ঠস্বর। ভ্রু-যুগল উঁচু আর ধনুকের মতো বাকাঁনো, চুলগুলো পরিপাটি। তাঁর গ্রীবা বিস্তৃত এবং দাড়ি বেশ ঘন। তাঁর গাম্ভীর্য তাঁর আত্মমর্যাদা প্রকাশ করে, তাঁর কথা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। তাঁর কথাগুলো মনোমুগ্ধকর আর দৃঢ়, চটুল কিংবা ফেলনা নয়। তাঁর প্রতিটি শব্দ যেন সুতোয় বাঁধা মুক্তোর মতো মসৃণ। দূর থেকে তাকে দেখতে যেমন উজ্জ্বল আর আকর্ষণীয়, কাছ থেকে দেখলেও তাকেই সবচেয়ে সুদর্শন লাগে। উচ্চতায় তিনি মাঝারি। খুব লম্বাও নন আবার খাটোও নন। বাকি দুইজনের মাঝে তিনি উঁচু বৃক্ষের শাখার মতো, তবে তিনজনের মাঝে তিনিই সবচে সুন্দর। তিনি ছিলেন তাঁর সঙ্গীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি যখন কথা বলতেন, তারা মন দিয়ে শুনতো, তিনি যখন কিছু আদেশ দিতেন তা পালন করতে তারা ছুটে যেতো। তিনি কখনও মুখ গোমড়া করেননি। আর কেউ একবারও তাঁর কথার বিরোধিতা করেনি।’
রসুল( ﷺ) শৈশব
যুদ্ধ
মহান আল্লাহর দ্বীন ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে নবী (ﷺ)-কে বেশ কিছু ছোট-বড় যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু এসব যুদ্ধ প্রচলিত যুদ্ধ-সংঘর্ষ থেকে আলাদা। কারণ মুহাম্মদ (ﷺ )-এর যুদ্ধগুলো প্রচলিত সামরিক অভিযান ছিল না, সাম্রাজ্য বিস্তার বা ধন-সম্পদ উপার্জনও লক্ষ্য ছিল না। বেশির ভাগ যুদ্ধই ছিল মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল প্রতিরোধমূলক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর বাহিনীকে আগে আক্রমণ করতে নিষেধ করতেন।
অনেক সামরিক পরিকল্পনা (খন্দকের যুদ্ধ) সন্ধিচুক্তি(যেমন হুদায়বিয়ার সন্ধি) এসব যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সম্পাদিত হয়েছে, যা বর্তমানেও দেশে দেশে যুদ্ধ ও শান্তির ক্ষেত্রে নমুনা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। মুহাম্মদ( ﷺ)-এর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিচয় এর মধ্য দিয়ে বিস্ময়করভাবে ফুটে উঠেছে, যা আধুনিক সমরনেতা ও রাষ্ট্রনেতার কাছেও আজ অভাবিত ব্যুত্পত্তিময় বলে চিহ্নিত হয়ে আসছে।
প্রচলিত অর্থনীতি
প্রচলিত অর্থনীতে রাসূল(ﷺ) যে নতুন বিষয়গুলি প্রবর্তন করেছিলেন সেগুলি হলো-
১। হালাল উপায়ে উপার্জন ও হারাম পথ বর্জন
২। সুদ উচ্ছেদ
৩। ব্যবসায়িক অসাধুতা উচ্ছেদ
৪। যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন
৫। বায়তুলমালের প্রতিষ্ঠা
৬। মানবিক শ্রমনীতির প্রবর্তন
৭। ওশরের প্রবর্তন ও ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থার ইসলামীকরণ
৮। উত্তরাধিকার ব্যবস্থার যৌক্তিক রূপদান
৯। ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের বিধান, এবং
১০। সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রবর্তন।
পারিবারিক জীবন
রাসূল (ﷺ) এর পারিবারিক জীবন কেমন ছিল? রাসূল (ﷺ) এর স্ত্রীগণ তার উপর খুশি, সব স্ত্রী তার চরিএে মুগ্ধ, সব স্ত্রী তার ভক্ত।তিনি রাসুল (ﷺ) যিনি
সহধর্মিণীদের হৃদয়ের ভাষা বুঝতেন, দুঃখ পেলে সান্ত্বনা দিতেন।
স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে শুতেন, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন
স্ত্রীর সাথে একই পাত্রে খাবার খাওয়ার পাশাপাশি মুখে খাবার তুলে দিতেন । কখনও খাবারের দোষ ধরতেন না।
স্ত্রীদের কাজে সাহায্য করার পাশাপাশি তাদের সাথে খোশগল্প করতেন। মনেই হতো না তিনি মহান রাসূল।
স্ত্রীদের পরিবার এবং আত্নীয়ের খোঁজ খবর নিতেন
স্ত্রীদের সাথে সালাম বিনিময় করতেন
সন্তানদের খুব ভালোবাসতেন। বিশেষ করে ফাতিমা ( রাদিআল্লাহু আনহা) কে যিনি নবুয়্যাত থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত পাশে ছিলেন।
স্ত্রীকে নিয়ে প্রিয় জায়গায় ঘুরতে যেতেন, দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন।
নবীজি খুব সুগন্ধী ব্যবহার করতেন।
সহধর্মিণীকে প্রিয় নামে ডাকতেন।
সর্বোপরি রাসুল (ﷺ) পারিবারিক জীবনে ঐ আয়াতেরই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন যে আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, " তোমারা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাব রক্ষা করে চলবে।"( সূরা নিসা ঃ ১৯)
ফিদাকা ইয়া আবী ওয়া উম্মী ইয়া রাসুলুল্লাহ (ﷺ)